নাটোর

0
  • Monday, July 12, 2010
  • রেজওয়ান
  • Labels: Natore
  • নাটোর জেলা
    নাটোর জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
    প্রশাসনিক বিভাগ রাজশাহী

    আয়তন (বর্গ কিমি) ১,৮৯৬
    জনসংখ্যা
    মোট: ১৫,২১,৩৫৯
    পুরুষ:৫০.৮৬%
    মহিলা: ৪৯.১৪%
    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ০
    কলেজ : ৫৪
    মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২০৭
    মাদ্রাসা : ২১৩
    শিক্ষার হার ২৭.০ %
    বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব রানী ভবানী
    প্রধান শস্য ধান, গম, আখ, পান
    রপ্তানী পণ্য চিনি, ধান, শাক সবজি

    নামকরণের ইতিহাস
    জনশ্রুতি আছে এখানকার কোনো এক স্থান ব্যাঙ সাপকে গ্রাস করেছিল এবং তা দেখে কয়েকজন বালিকা নৃত্য করেছিল। এ নৃত্যকে উপলক্ষ করে ওই স্থানের নাম হয় নাট্যপুর। পর্যায়ক্রমে নাট্যপুর, নাটাপুর, নাট্টর ও নাটোর হয়েছে। অন্য তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমান জেলা সদরের অবস্থান এত নিচু ছিল যে, এখানে পায়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব। তাই স্থানটিকে বলা হতো ‘নাতর’ (না-অসম্ভব এবং তর-গমন); যা থেকে কালক্রমে নাটোর নামের উৎপত্তি হয়েছে। অন্য অভিমত হচ্ছে জেলা সদরের পাশ দিয়ে প্রবহমান নারদ নদীর নাম থেকে কালক্রমে নাটোর জেলার নামকরণ হয়েছে।

    ভৌগলিক সীমানা
    আয়তনের ভিত্তিতে নাটোর জেলা বাংলাদেশের ৩৬তম বৃহত্তম জেলা। এই জেলার মোট আয়তন ১৮৯৬.০৫ বর্গ কিমি, যা সমগ্র বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১.২৮%। ভৌগলিকভাবে নাটোর জেলা ২৪০২৫ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৪০৫র্৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০০র্১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৮০৩০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। নাটোর জেলার উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা। দক্ষিণে পাবনা ও বগুড়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা।

    নাটোরসহ এর পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে অবস্থিত চলন বিল হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল। সড়ক পথে ঢাকা থেকে এর দুরত্ব ২২০ কিমি।

    প্রধান নদী
    উল্লেখযোগ্য নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা নদী (পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। এটি হিমালয় পর্বতে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা। এটি ভারত থেকে বাংলাদেশে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা হয়ে প্রবেশ করেছে। আরিচাতে এটি যমুনা নদীর সাথে মিশেছে, এবং পদ্মা নামেই পরে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। অত:পর মেঘনা বঙ্গোপসাগরে শেষ হয়েছে।বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত), আত্রাই, বড়াল, নারদ, নন্দকুজা, খলসাডাংগা উল্লেখষোগ্য।

    প্রশাসনিক পটভূমি

    প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি পুণ্ড্র রাজ্যের অন্তর্গত পুণ্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে মুঘল আমলে শাসনব্যবস্থা জমিদারিতে পরিণত হয়। নাটোর জমিদারির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা রঘুনন্দন পুঠিয়া রাজার উকিল হিসেবে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে কাজ করতেন। রঘুনন্দনের অগ্রজ রামজীবন জমিদারির প্রশাসনে সুখ্যাতি অর্জন করেন এবং এর জন্য নবাব ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে অনেক জমিদারি পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেন। ১৭৩০ সাল পর্যন্ত- রামজীবন এ জমিদারি পরিচালনা করেন। তার মৃত্যুর পর দত্তক পুত্র রামকান্ত- জমিদারি লাভ করে। ১৭৪৮ সালে রাজকাণ্ডের মৃত্যুর পর তার পত্নী রানী ভবানী জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পান। তার রাজধানী ছিল রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ জেলায়। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে বাংলা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ইংরেজ বেনিয়ারা এদেশে তাদের শাসন কার্যকর করতে চাইলেও রানী ভবানী ইংরেজদের সম¯- আধিপত্য অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে তার জমিদারি পরিচালনা করে। ১৮০২ সালে রানী ভবানীর মৃত্যুর পর পর্যায়ক্রমে শাসনভার ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর নাটোরসহ এতদঞ্চল পূর্ব পাকিস্থানের অংশ হিসেবে শাসিত হতে থাকে। দেশ স্বাধীন হলে রাজশাহী বিভাগের মহকুমা হিসেবে শাসিত হয় এবং সবশেষে ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় পরিণত হয়। বর্তমানে নাটোর জেলায় ৬টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা, ৫২টি ইউনিয়ন, ৩৬টি ওয়ার্ড, ৯৩টি মহল্লা, ১২৭২টি মৌজা ও ১৩৭৭টি গ্রাম আছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে নাটোর সদর, গুরুদাসপুর, লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও সিংড়া।

    প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
    নাটোর জেলার উপজেলা গুলি হল –

     নাটোর সদর উপজেলা : (নাটোর সদর বাংলাদেশের নাটোর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা)
     বাগাতিপাড়া উপজেলা : (বাগাতিপাড়া বাংলাদেশের নাটোর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।)
     বরাইগ্রাম উপজেলা
     গুরুদাসপুর উপজেলা
     লালপুর উপজেলা
     সিংড়া উপজেলা

    ইতিহাস
    ১৮৪৫ সালে রাজশাহী জেলার অধীনে নাটোর মহকুমার সৃষ্টি। আর অন্যান্য মহকুমার মতো জেলায় উন্নীত হয় ১৯৮৪ সালে।

    অর্থনীতি
    জেলার প্রধান উৎপাদিত ফসল হলো ধান। এছাড়াও এখানে গম, ভূট্টা, আখ উৎপাদিত হয়।
    এখানে বেশ কয়েকটি ভারি শিল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুইটি চিনিকল, একটি ডিস্টিলারি, একটি ফলের রস এর কারখানা। দেশের ১৬টি চিনিকলের মধ্যে ২টি এই জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও মূলতঃ এই জেলায় উৎপাদিত আখের উপর নি্র্ভর করে পার্শ্ববর্তী রাজশাহী ও পাবনা জেলায় গড়ে উঠেছে আরও দুইটি চিনিকল।

    চিত্তাকর্ষক স্থান
    উত্তরা গণভবন (দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি বা উত্তরা গণভবন বাংলাদেশের নাটোর শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে এককালের দিঘাপাতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান এবং বর্তমান উত্তরা গণভবন বা উত্তরাঞ্চলের গভর্মেন্ট হাউস। উত্তরা গণভবনপ্রাসাদের মূল অংশ এবং সংলগ্ন কিছু ভবন নির্মাণ করেছিলেন রাজা দয়ারাম রায়। ১৮৯৭ সালে প্রাসাদটি ভূমিকম্পে ধবংস হলে রাজা প্রমোদনাথ রায় পুরো প্রাসাদ আবার পূননির্মাণ করেন। ৪৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত প্রাসাদটি পরিখা ও উচু প্রাচীর ঘেরা। প্রাসাদের পূর্বপাশে পিরামিড আকৃতির চারতলা প্রবেশদ্বার রয়েছে যা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে এবং এর উপরে একটি ঘড়িও রয়েছে।


    উত্তরা গণভবনপ্রাসাদের পিছন দিকে রয়েছে ফোয়ারা সহ একটি সুদৃশ্য বাগান। বাগানের এক কোণে রয়েছে প্রমাণ আকৃতির মার্বেল পাথরের তৈরি একটি নারী মূর্তি। ১৯৪৭সালের পর অবশ্য এ ভবনে আর কেউ বসবাস করেন নি।), পাগলা রাজার বাড়ী, যুব পার্ক, চলন বিল, বাগাতিপাড়ার জমিদার বাড়ি, লালপুরের পদ্মার চর।

    উৎস: http://bn.wikipedia.org/wiki/Natore_District

    0 comments:

    Post a Comment